বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন
বাংলাদেশে মানবাধিকার মিশন, অতীত লঙ্ঘনের তদন্ত শুরু?
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সম্প্রসারণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) এবার সরাসরি মাঠে নামছে। শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই চমকপ্রদ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানবাধিকারের সুরক্ষা ও বিকাশে সহযোগিতার লক্ষ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের অফিস ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে তিন বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। এটি হবে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশনের প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ।
মিশনটি মূলত সরকারি দপ্তর ও বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইনি সহায়তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণে বাংলাদেশকে সহায়তা করা হবে।
এই উদ্যোগ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলিকে ঘিরে উদ্ভূত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে গৃহীত পদক্ষেপ। বিশেষ করে যেসব গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে, তার জবাবদিহির প্রতি বাংলাদেশের সদিচ্ছারই প্রতিফলন এটি।
গণমাধ্যম জানায়, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আদর্শিক অবস্থান নিয়ে দেশের অনেক নাগরিকের উদ্বেগ রয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের সমাজ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে গঠিত। তাই এই মিশন নিশ্চিত করবে, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বে আমাদের মূল্যবোধ উপেক্ষিত না হয়। ওএইচসিএইচআরের মিশন কেবল গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিরোধ, প্রতিকার এবং অতীতের অন্যায় কার্যকলাপের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই কাজ করবে। এটি দেশের আইন ও মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে কোনো সামাজিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে যুক্ত হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মিশনটি সর্বদা স্বচ্ছতা বজায় রাখবে এবং স্থানীয় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
বাংলাদেশ সরকারও স্পষ্ট করেছে, এই অংশীদারত্ব যদি ভবিষ্যতে দেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়ে পড়ে, তবে সরকার নিজেকে এই চুক্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ার সার্বভৌম অধিকার সংরক্ষণ করে।
গণমাধ্যম জানায়, অতীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতনসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু ঘটনাই অনলিখিত থেকে গেছে। এমন একটি মানবাধিকার সংস্থার কার্যক্রম তখন থাকলে হয়তো অনেক ঘটনার তদন্ত ও বিচার সম্ভব হতো। আজকের এই যুগে মানবাধিকারের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কেবল আবেগনির্ভর নয়, বরং তা হওয়া উচিত আইন ও ন্যায়ের ভিত্তিতে।
সরকার এই অংশীদারিত্বকে দেখছে একটি সম্ভাবনার জানালা হিসেবে—যা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করবে, নাগরিক সুরক্ষায় এক নতুন পথ দেখাবে এবং যে রাষ্ট্র ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত, সেই রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পরিচয় বহন করবে।